মেনু নির্বাচন করুন
আইন ও পলিসি

জেলা পরিষদ আইন, ২০০০

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়

জেলা পরিষদ আইন, ২০০০

(২০০০ সনের ১৯নং আইন)

[বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় ৬ই জুলাই, ২০০০ তারিখে প্রকাশিত।]

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ

ঢাকা, ৬ই জুলাই, ২০০০/২২শে আষাঢ়, ১৪০৭

সংসদ কতক গৃহীত নিম্নলিখিত আইনটি ৬ই জুলাই, ২০০০ (২২শে আষাঢ়, ১৪০৭) তারিখে রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করিয়াছে এবং এতদ্বারা এই আইনটি সর্বসাধারণের অবগতির জন্য প্রকাশ করা যাইতেছেঃ-

২০০০ সনের ১৯নং আইন

জেলা পরিষদ সংক্রামন আইন রহিত করিয়া সংশোধনীসহ উহা পুনঃ প্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন

যেহেতু জেলা পরিষদ সংক্রামন আইন রহিত করিয়া সংশোধনীসহ উহা পুনঃ প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইলঃ-

১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, প্রবর্তন ও প্রয়োগ।-

(১) এই আইন জেলা পরিষদ আইন, ২০০০ নামে অভিহিত হইবে।

(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে ইহা বলবৎ হইবে।

(৩) ইহা খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ও বানদরবান পার্বত্য জেলাসহ ব্যতীত

     বাংলাদেশের অন্য সকল জেলায় প্রযোজ্য হইবে।

২। সংজ্ঞা। - বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে -

(ক) অস্থায়ী চেয়ারম্যান অর্থ ধারা ১৩ এর বিধান অনুসারে নির্বাচিত অস্থাায়ী চেয়ারম্যান;

(খ) ওয়ার্ড অর্থ মহিলা সদস্যসহ কোন সদস্য নির্বাচনের জন্য ধারা ১৬ অনুসারে সীমা নির্ধারিত এলাকা;

(গ) চেয়ারম্যান অর্থ পরিষদের চেয়ারম্যান;

(ঘ) নির্ধারিত অর্থ বিধি দ্বারা নির্ধারিত;

(ঙ) পরিষদ অর্থ এই আইনের বিধান অনুযায়ী গঠিত জেলা পরিষদ;

(চ) প্রবিধান অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;

(ছ) বিধি অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;

(জ) মহিলা সদস্য অর্থ ধারা ৪(১)(গ) অনুসারে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত পরিষদের সদস্য;

(ঝ) সদস্য অর্থ পরিষদের সদস্য, এবং চেয়ারম্যান ও মহহিলা সদস্যও ইহার অমনর্ভূক্ত হইবেন;

(ঞ) স্থানীয় কতপক্ষ, অর্থ সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ।

৩। পরিষদ স্থাপন। - (১) এই আইন বলবৎ হইবার পর, যত শীঘ্র সম্ভব, প্রত্যেক জেলায় এই আইনের বিধান অনুযায়ী একটি জেলা পরিষদ স্থাপিত হইবে এবং সংশ্লিষ্ট  জেলার নামে উহার জেলা পরিষদ পরিচিত হইবে।

(২)  প্রত্যেক জেলা পরিষদ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইন ও বিধি সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবরর উভয় প্রকার সমঙত্তি অর্জন করিবার অধিকারে রাখিবার ও স্থানান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহার নামে ইহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে বা ইহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইবে।

৪। পরিষদ গঠন- (১)  নিম্নরূপ সদস্য সমন্বয়ে পরিষদ গঠিত হইবে, যথাঃ-

    (ক) একজন চেয়ারম্যান;

    (খ) পনের জন সদস্য; এবং

    (গ) সংরক্ষিত আসনের পাঁচজন মহিলা সদস্য।

(২)  চেয়ারম্যান, সদস্য ও মহিলা সদস্যগণ ধারা ১৭ এর অধীন গঠিত নির্বাচক মন্ডলীর ভোটে নির্বাচিত হইবেন।

(৩)  চেয়ারম্যান, সদস্য ও মহিলা সদস্যগণ নির্ধারিত পারিশ্রমিক, বিশেষ অধিকার, ছুটি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করিবেন।

৫। পরিষদের মেয়াদ- ধারা ৬১ এর বিধান সাপেক্ষে, পরিষদের মেয়াদ উহার প্রথম সভার তারিখ হইতে পাঁচ বৎসর হইবেঃ তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচিত নুতন পরিষদ উহার প্রথম সভায় মিলিত না হওয়া পর্যন্ত পরিষদ কার্য চালাইয়া যাইবে।

চেয়ারম্যান,  সদস্য  ও  মহিলা  সদস্যগণের  যোগ্যতা  ও  অযোগ্যতা-  (১)  উপ-ধারা  (২)  এর  বিধান সাপেক্ষে, কোন ব্যক্তি চেয়ারম্যান, সদস্য ও মহিলা সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন, যদি-

(ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হন;

(খ) তাঁহার বয়স পঁচিশ বৎসর পুর্ণ হয়; এবং

(গ) তাঁহার নাম জাতীয় সংসদের নির্বাচনের জন্য প্রস'তকত আপাততঃ বলবৎ ভোটার তালিকার যে অংশ সংশ্লিষ্ট জেলাভূক্ত অথবা, ক্ষেত্রমত, উক্ত জেলার সংশিষ্ট  ওয়ার্ডভূক্ত এলাকা সংক্রামন সেই অংশের অমনর্ভূক্ত থাকে।

(২)  কোন ব্যক্তি চেয়ারম্যান, সদস্য ও মহিলা সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি -

(ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেন বা হারান;

(খ) তাহাকে কোন আদালত অপ্রক্ষিত বলিয়া ঘোষণা করে;

(গ) তিনি দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর দায় হইতে অব্যাহতি লাভ না করিয়া থাকেন;

(ঘ) তিনি নৈতিক ম্ফখলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যসন হইয়া অন্যুন দুই বৎসরের কারাদন্ডে দন্ডিত

হন এবং তাহার মুক্তি লাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে;

(ঙ) তিনি প্রজাতমেল্গর বা পরিষদের বা অন্য কোন স্থানী কতৃর্পক্ষের কোন কর্মে লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন;

(চ) তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য বা অন্য কোন স'ানীয় কতৃর্পক্ষের চেয়ারম্যান বা সদস্য হন বা থাকেন;

(ছ) তিনি পরিষদের কোন কাজ সমঙাদনের বা মালামাল সরবরাহের  জন্য ঠিকাদার হন বা হইবার জন্য নিযুক্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হন বা পরিষদের কোন বিষয়ে তাঁহার কোন প্রকার আর্থিক স্বার্থ থাকে বা তিনি সরকার কতৃর্ক নিযুক্ত অত্যাবশ্যক কোন দ্রব্যের দোকানদার হন;

(জ) তিনি একইসঙ্গে চেয়ারম্যান, সদস্য ও মহিলা সদস্যের দুই বা ততোধিক পদে প্রার্থী হন;

(ঝ) তাঁহার নিকট কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হইতে গৃহীত কোন ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় অনাদায়ী থাকে।

ব্যাখ্যা।-  এই উপধারার উদ্দেশ্য পুরণকল্পে -

(ক) ব্যাংক অর্থ ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর ধারা ২ (ড)তে সংজ্ঞায়িত ব্যাংক কোম্পানী;

(খ) আর্থিক প্রতিষ্ঠান অর্থ আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ (১৯৯৩ সনের ২৭ নং আইন) এর ধারা ২(খ) তে সংজ্ঞায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান;

৭। চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের শপথ। - (১)   চেয়ারম্যান ও প্রত্যেক সদস্য তাঁহার কার্যভার গ্রহণের পূর্বে নিম্নলিখিত  ফরমে  সরকার  কতৃর্ক  নির্ধারিত  কোন  ব্যক্তির  সম্মুখে  শপথ  গ্রহণ  বা  ঘোষণা  করিবেন  এবং  শপথপত্রে  বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিবেন, যথাঃ-

আমি (নাম) ................................................................................

পিতা বা স্বামী ..............................................................................

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান/সদস্য/মহিল সদস্য নির্বাচিত হইয়া সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ বা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করিতেছি যে, আমি আইন অনুযায়ী এবং সততা, নিষ্ঠা ও বিশ্বসনতার  সহিত আমার পদের কর্তব্য পালন করিব। আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব।

(২)   চেয়ারম্যান বা সদস্য হিসাবে নির্বাচিত ব্যক্তিগণের নাম সরকারী গেজেটে প্রকাশিত হইবার ত্রিশ দিনের মধ্যে চেয়ারম্যানসহ সকল সদস্যের শপথ গ্রহণ বা ঘোষণার জন্য সরকার বা তৎকতক নির্ধারিত কতপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

৮।  সম্পত্তি সম্পর্কিত ঘোষণা-  চেয়ারম্যান এবং প্রত্যেক সদস্য তাঁহার দায়িত্বভার গ্রহণের পূর্বে তাঁহার এবং তাঁহার পরিবারের যে কোন সদস্যের স্বত্ব, দখল বা স্বার্থ আছে এই প্রকার যাবতীয় স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পত্তির একটি লিখিত বিবরণ সরকার কতক নির্ধারিত পদ্ধতিতে তৎকতক নির্ধারিত কতৃর্পক্ষের নিকট দাখিল করিবেন।

ব্যাখ্যা।- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে পরিবারের সদস্য বলিতে চেয়ারম্যান বা সংশ্লিষ্ট  সদস্যের সল্গী বা স্বামী এবং তাঁহার সহিত বসবাসকারী এবং তাঁহার উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল পুত্র, কন্যা,পিতা, মাতা, ভ্রাতা ও ভগ্নিকে বুঝাইবে।

।   চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের পদত্যাগ- (১) সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে কোন চেয়ারম্যান এবং চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষণযুক্ত পত্রযোগে কোন সদস্য স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পরিবেন।

(২)  পদত্যাগপত্র গৃহীত হইবার তারিখ ইহতে পদত্যাগ কার্যকর হইবে এবং পদত্যাগকারীর পদ শূন্য হইবে।

১০।  চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের অপসারণ - (১) চেয়ারম্যান বা কোন সদস্য তাঁহার স্বীয় পদ হইতে অপসারণযোগ্য হইবেন, যদি তিনি -

(ক) যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতিরেকে পরিষদের পর পর তিনটি সভায় অনুপস্খিত থাকেন;

(খ) পরিষদের বা রাষ্ট্রের হানিকর কোন কাজে জড়িত থাকেন;

(গ) দন্ডর্নীতি বা অসদাচরণ বা নৈতিক ম্ফখলনজনতি কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যসন হইয়া আদালত কতৃর্ক দন্ডপ্রাপ্ত হন;

(ঘ) তাহার দায়িত্ব পালন করিতে অস্বীকার করেন অথবা শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণে তাঁহার দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন; অথবা

(ঙ)  অসদাচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের দোষে দোষী হন অথবা পরিষদের কোন অর্থ বা সমঙত্তির কোন ক্ষতি সাধন বা উহার আত্মসাতের জন্য দায়ী হন।

ব্যাখ্যা ।- এই উপ-ধারায় অসদাচরণ বলিতে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ইচ্ছকতৃর্ক কুশাসনও বুঝাইনবে।

(২)  চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যকে উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত কোন কারণে তাঁহার পদ হইতে অপসারণ করা যাইবে না, যদি বিধি অনুযায়ী তদুদ্দেশ্যে আহুত পরিষদের বিশেষ সভায় মোট সদস্য সংখ্যার অন্যুন  দুই-ততীয়াংশ ভোটে তাহার অপসারণের পক্ষে প্রসনাব গৃহীত এবং প্রসনাবটি সমঙর্কে প্রয়োজনীয় তদমেনর পর উহা সরকার কতক অনুমোদিত না হয়ঃ তবে শর্ত থাকে যে, উপ-ধারা (১) এর দফা (গ) এ বর্ণিত কারণে চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যকে অপসারণের জন্য উক্তরূপ প্রসনাব গ্রহণের প্রয়োজন হইবে নাঃ আরও শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ সিদ্ধামন গ্রহণের পঞ্ঝর্বে চেয়ারম্যান বা উক্ত সদস্যকে প্রসনাবিত সিদ্ধামেনর বিরুদ্ধে কারণ দর্শাইবার জন্য যুক্তিসঙ্গত সুযোগ দান করিতে হইবে।

(৩)  উপ-ধারা (২) অনুযায়ী গৃহীত প্রসনাব সরকার কতক অনুমোদিত হইলে অনুমোদনের তারিখে চেয়ারম্যান বা উক্ত সদস্য তাহার পদ হইতে অপসারিত হইয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।

(৪)  উপ-ধারা (১) এর অধীন চেয়ারম্যান বা কোন সদস্য অপসারিত হইলে বিধি মোতাবেক নির্বাচনের মাধ্যমে শূন্যপদ পুরণ করা হইবে।

(৫)  এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই ধারা অনুযায়ী অপসারিত কোন ব্যক্তি পরিষদের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যন বা সদস্য পদে নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন না।

১১। চেয়ারম্যান বা সদস্যপদ শন্য হওয়া-- (১)  চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যের পদ শূন্য হইবে, যদি তিনি -

(ক) তাঁহার নাম সরকারী গেজেটে প্রকাশিত হইবার তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে ধারা ৭ এ নির্ধারিত শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ব্যর্থ হনঃ তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হইবার পূর্বে সরকার বা তৎকতৃর্ক নির্ধারিত কতৃর্পক্ষ যথার্থ কারণে উক্ত মেয়াদ বর্ধিত করিতে পারিবে;

(খ) ধারা ৬ এর অধীন তাঁহার পদে থাকিবার অযোগ্য হন;

(গ) ধারা ৯ এর অধীন তাঁহার পদ ত্যাগ করেন;

(ঘ) ধারা ১০ এর অধীন তাঁহার পদ হইতে অপসারিত হন;

(ঙ) মৃত্যুবরণ করেন।

(২) চেয়ারম্যান বা কোন সদস্য পদ শূন্য হইলে সরকার অবিলম্বে উক্ত পদ শূন্য ঘোষণা করিয়া বিয়টি সরকারী গেজেটে প্রকাশ করিবে।

১২শূন্য পদ পূরণ- পরিষদের মেয়াদ শেষ হইবার তারিখের একশত আশি দিন বা তদপেক্ষা বেশী দিন পূর্বে চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যের পদ শূন্য হইলে, পদটি শূন্য হইবার ষাট দিনের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে উক্ত শূন্য পদ পূরণ করিতে হইবে, এবং যিনি উক্ত পদে নির্বাচিত হইবেন তিনি পরিষদের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।

১৩।  অস্থায়ী চেয়ারম্যানের প্যানেল- (১) পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হইবার ত্রিশ দিনের মধ্যে পরিষদ উহার  সদস্যগণের  মধ্য  হইতে  অন্ততঃ  একজন  মহিলাসহ  তিনজন  সদস্য  সমন্বয়ে  অস্থায়ী  চেয়ারম্যানের  একটি  প্যানেল  নির্বাচন করিবে।

(২)  চেয়ারম্যান পদ কোন কারণে শূন্য হইলে অথবা অনুপস্থিতি বা অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে চেয়ারম্যান তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে নতুন নিবাচিত চেয়ারম্যান তাঁহার পদে যোগদান না করা পর্যন্ত বা, ক্ষেত্রমত, চেয়ারম্যান কতক পুনরায় স্বীয়  দায়িত্ব  পালনে  সমর্থ  না  হওয়া  পর্যন্ত,  প্যানেলর্ভূক্ত  সদস্যগণের  মধ্যে  যাহার  নাম প্যানেলের  শীর্ষে  থাকিবে বা তাঁহার অনুপসি'তিতে ক্রমানুসারে পরবর্তী সদস্য পরিষদের অস্থায়ী চেয়ারম্যানরূপে দায়িত্ব পালন করিবেন।

১৪ওয়ার্ড  -  (১)  মহিলা  সদস্য  ব্যতিত  অন্যান্য  সদস্য  নির্বাচনের  জন্য  যতজন  সদস্য  নির্বাচিত  হইবেন প্রত্যেক জেলাকে ততটি ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হইবে;

(২)   মহিলা সদস্য নির্বাচনের জন্য যতজন মহিল সদস্য নির্বাচিত হইবেন প্রত্যেক জেলাকে ততটি ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হইবে।

১৫। সীমা  নির্ধারণ  কর্মকর্তা  নিয়োগ-  (১)  সরকার  প্রজাতমেল্গর  কর্মে  নিয়োজিত  ব্যক্তিগণের  মধ্য  হইতে একজন সীমা নির্ধারণ কর্মকর্তা এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক সহকারী সীমা নির্ধারণ কর্মকর্তা নিয়োগ করিতে পারিবে।

(২)   সহকারী সীমা নির্ধারণ  কর্মকর্তা সীমা নির্ধারণ কর্মকর্তাকে তাঁহার  কার্য  সমঙাদনে সহায়তা করিবেন এবং সীমা নির্ধারণ কর্মকর্তার নিয়মল্গণাধীন সীমা নির্ধারণ কর্মকর্তার কার্যাবলীও সমঙাদন করিতে পারিবেন।

১৬।   ওয়ার্ডের  সীমা  নির্ধারণ-  (১)  ওয়ার্ডসমূহের  সীমা  নির্মারণের  ক্ষেত্রে  এলাকার  অখন্ডতা  এবং  যতদুর  সম্ভব, নির্বাচকমন্ডলীর সদস্য সংখ্যার বিন্যাসের প্রতি লক্ষ্য রাখিতে হইবে।

(২)  সীমা নির্ধারণ কর্মকতা ওয়ার্ডসমুহের সীমা নির্ধারণকল্পে প্রয়োজনীয় তদন্ত অনুষ্ঠান করিতে এবং সকল সংশ্লিষ্ট  নথিপত্র পরীক্ষা কততে এবং এতদ্সংক্রান্ত বিষয়ে প্রাপ্ত যাবতীয় অভিযোগ বিবেচনা করিতে পারিবেন; এবং জেলার কোন এলাকা কোন ওয়ার্ডের অন্তর্ভূক্ত হইবে তাহা উল্লেখ করিয়া বিধি অনুযায়ী তিনি একটি প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করিবেন এবং তৎসহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তৎসমঙর্কে আপত্তি ও পরামর্শ দাখিল করিবার আহবান জানাইয়া একটি নোটিশও প্রকাশ করিবেন।

(৩)  উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রাপ্ত কোন আপত্তি বা পরামর্শ বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হইবে।

(৪)   সীমা  নির্ধারণ  কর্মকর্তা  তৎকর্তৃক  গৃহীত  আপত্তি  বা  পরামর্শের  ভিত্তিতে  বা  কোন  ত্রুটি  বা বিচ্যুতি দুরীকরণের প্রয়োজনে, উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রকাশিত প্রাথমিক তালিকায় প্রয়োজনীয় সংশোধন বা পবিরর্তন করিতে পারিবেন।

(৫)   উপ-ধারা (৪) এর অধীন কৃত সংশোধন বা পরিবর্তনের পর সীমা নির্ধারণ কর্মকর্তা প্রত্যেক ওয়ার্ডের অমনর্ভূক্ত এলাকাসমুহ উল্লেখ করিয়া বিধি অনুযায়ী ওয়ার্ডসমুহের একটি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করিবেন।

১৭।  নির্বাচক মন্ডলী ও ভোটার তালিকা-- (১) প্রত্যেক জেলার অন্তর্ভূক্ত সিটি কর্পোরেশন, যদি থাকে, এর মেয়ার ও কমিশনারগণ, উপজেলা  পরিষদের  চেয়ারম্যান,  পৌরসভার  চেয়ারম্যান  ও  কমিশনারগণ  এবং  ইউনিয়ন  পরিষদের  চেয়ারম্যান  ও সদস্যগণ সমন্বয়ে উক্ত জেলার পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচক মন্ডলী গঠিত হইবে।

(২)  প্রত্যেক ওয়ার্ডের জন্য নির্বাচন কমিশন কতৃর্ক প্রণীত একটি ভোটার তালিকা থাকিবে।

(৩)   উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্বাচক মন্ডলীর সদস্য নহেন এইরূপ কোন ব্যক্তি ভোটার তালিকাভূক্ত হওয়ার যোগ্য হইবেন না।

(৪)  এই ধারার অন্যান্য বিধান সত্বেও, ভোটার তালিকাভূক্ত কোন ব্যক্তি পরিষদের নির্বাচনে ভোট দানে পূর্বে যদি নির্বাচক মন্ডলীর সদস্য হইবার যোগ্যতা হারান তাহা হইলে তিনি উক্ত নির্বাচনে ভোট দান করিতে পারিবেন না বা উক্ত নির্বাচনের জন্য ভোটার বলিয়া গণ্য ইহবেন না।

১৮। ভোটাধিকার - কোন ব্যক্তির নাম যে ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় আপাততঃ লিপিবদ্ধ থাকিবে তিনি সেই ওয়ার্ডের সদস্য নির্বাচনে এবং সেই ওয়ার্ড যে জেলার অন্তর্ভূক্ত সেই জেলার পষিদের চেয়ারম্যান নির্বাচনে ভোট দানের অধিকারী ইহবেন।

১৯।  নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়- নিম্নবর্ণিত সময়ে চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে, যথাঃ-

(ক) পরিষদ প্রথমবার গঠনের ক্ষেত্রে, সরকার সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে;

(খ) পরিষদের মেয়াদ শেষ হইবার ক্ষেত্রে, উক্ত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্ববর্তী একশত আশি দিনের মধ্যে;

(গ) পরিষদ ধারা ৬১ এর অধীন বাতিল হইবার ক্ষেত্রে, বাতিলাদেশ জারীর পরবর্তী একশত আশি দিনের মধ্যে।

২০। নির্বাচন পরিচালনা- (১) সংবিধান অনুযায়ী গঠিত নির্বাচন কমিশন, অতঃপর নির্বাচন কমিশন বলিয়া উল্লিখিত, এই আইন ও বিধি অনুযায়ী চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্বাচন অনুষ্ঠান পরিচালনা করিবে।

(২)  সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্বাচনের জন্য বিধি প্রণয়ন করিবে এবং অনুরূপ বিধিতে নিম্নবর্ণিত সকল অথবা যে কোন বিষয়ে বিধান করা যাইবে, যথাঃ-

(ক) নির্বাচন পরিচালনার উদ্দেশ্যে রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসার নিয়োগ এবং তাহাদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব;

(খ) প্রার্থী মনোনয়ন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে আপত্তি এবং মনোনয়ন বাছাই;

(গ) প্রার্থীগণ কতৃর্ক প্রদেয় জামানত এবং উক্ত জামাত ফেরতান বা বাজেয়াপ্তকরণ;

(ঘ) প্রার্থী পদ প্রত্যাহার;

(ঙ) প্রার্থীগণের এজেনট নিয়োগ;

(চ) প্রতিদ্বনিদ্বতা এবং বিনা প্রতিদ্বনিদ্বতার ক্ষেত্রে নির্বাচন পদ্ধতি;

(ছ) ভোট গ্রহণের তারিখ, সময় ও স'ান এবং নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়;

(জ) ভোটদানের পদ্ধতি;

(ঝ) ব্যালট পেপার এবং নির্বাচন সংক্রামন অন্যান্য কাগজপত্রের হেফাজত ও বিলিবনটন;

(ঞ) যে অবস্থাায় ভোট গ্রহণ স'গিত করা যায় এবং পুনরায় ভোট গ্রহণ করা যায়;

(ট) নির্বাচন ব্যয়;

(ঠ) নির্বাচনে দন্ডর্নীতিমূলক বা অবৈধ কার্যকলাপ ও অন্যান্য নির্বাচন অপরাধ এবং উহার দন্ড;

(ড) নির্বাচন বিরোধ, নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল ও নির্বাচন আপীল ট্রাইব্যুনাল গঠন, নির্বাচনী দরখাস্ত দায়ের, নির্বাচন বিরোধ নিস্পত্তির ব্যাপারে উক্ত ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা ও অনুসরণীয় পদ্ধতিসহ আনুষংগিক বিষয়াদি; এবং নির্বাচন সম্পর্কিত আনুষংগিক অন্যান্য বিষয়।

(৩) উপ-ধারা (২) (ঠ) এর অধীন প্রণীত বিধিতে কারাদন্ড, অর্থদন্ড বা উভয়বিধ দন্ডের বিধান করা যাইবে, তবে কারাদন্ডের মেয়াদ সাত বৎসরের অধিক হইবে না।

২১।     নির্বাচনের  ফলাফল  প্রকাশ--  চেয়ারম্যান,  সদস্য  ও  মহিল  সদস্য  হিসাবে  নির্বাচিত  সকল  ব্যক্তির  নাম নির্বাচনের পর, যতশীঘ্র সম্ভব, নির্বাচন কমিশন সরকারী গেজেটে প্রকাশ করিবে।

২২।   চেয়ারম্যান ও সদস্য কর্তৃক কার্যভার গ্রহণ-- চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ সভায় প্রথম যে তারিখে যোগদান করিবেন সেই তারিখে তাহার স্বীয় পদের কার্যভার গ্রহণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।

২৩।  পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠান-- ধারা ৭ এর অধীন শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পরবর্তী ত্রিশ দিনের মধ্যে পরিষদের  প্রথম সভা সরকার বা উহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি আহবান করিবেন।

২৪।  নির্বাচন বিরোধ, নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল ইত্যাদি-- (১) এই আইনের অধীন কোন নির্বাচন বা নির্বাচনী কার্যক্রম সম্পর্কে নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল ব্যতীত কোন আদালত বা অন্য কোন কতপক্ষের নিকট প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।

(২)   এই আইনের অধীন নির্বাচন সমঙর্কিত বিরোধ নিস্পত্তির উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশন সাব-জজ পদমর্যাদার বিচার বিভাগীয় একজন কর্মকর্তা সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল এবং একজন জেলা জজ পদমর্যাদার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাচন আপীল ট্রাইব্যুনাল গঠন করিতে পারিবে।

(৩)   কোন নির্বাচনের প্রার্থী ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি সেই নির্বাচনের কোন বিষয়ে প্রশণ উত্থাপন ও প্রতিকার প্রার্থনা করিয়া নির্বাচন ট্রাইব্যুনালে দরখাস্ত করিতে পারিবেন না।

২৫।   নির্বাচনী দরখাস বা আপীল বদলীকরণের ক্ষমতা- নির্বাচন কমিশন নিজ উদ্যোগে অথবা পক্ষগণের কোন এক পক্ষ কতক এতদুদ্দেশ্যে পেশকত আবেদনের প্রেক্ষিতে যে কোন পর্যায়ে একটি নির্বাচনী দরখাসন এক নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল হইতে অন্য নির্বাচন ট্রাইব্যুনালে অথবা একটি আপীল ট্রাইব্যুনাল হইতে অপর একটি আপীল ট্রাইব্যুনালে বদলী করিতে পারিবে; এবং যে নির্বাচন ট্রাইব্যুনালে বা আপীল ট্রাইব্যুনালে তাহা বদলী করা হইবে সেই নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল বা আপলী ট্রাইব্যুনাল উক্ত দরখাসন বা আপীল যে পর্যায়ে বদলী করা হইয়াছে সেই পর্যায় হইতে উহার বিচারকার্য চালাইয়া যাইবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, নির্বাচনী দরখাসন যে নির্বাচন ট্রাইব্যুনালে বদলী করা হইয়াছে সেই নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল উপযুক্ত মনে করিলে ইতিপূর্বে পরীক্ষিত কোন সাক্ষী পুনরায় তলব বা পুনরায় পরীক্ষা করিতে পারিবে এবং অনরূপভাবে আপীল ট্রাইব্যুনালও এই ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে।

২৬বিধি অনুযায়ী নির্বাচনী দরখাস, আপীল নিষ্পত্তি ইত্যাদি- নির্বাচনী দরখাস্তের পক্ষ, নির্বাচনী দরখাসন ও নির্বাচন  আপীল  দায়েরের  পদ্ধতি,  নির্বাচন  ট্রাইব্যুনাল  ও  নির্বাচন  আপীল  ট্রাইব্যুনাল  কতক  নির্বাচন  বিরোধ  নিষ্পত্তি  ব্যাপারে অনুসরণীয় পদ্ধতি, উক্ত ট্রাইব্যুনালসমুহের এখতিয়ার ও ক্ষমতা, সংশিষ্ট  পক্ষকে প্রদেয় প্রতিকার এবং আনুষঙ্গিক সকল বিষয় বিধি ধারা নির্ধারিত হইবে।

২৭।  পরিষদের কার্যাবলী- (১)  পরিষদের কার্যাবলী দুই প্রকারের হইবে, আবশ্যিক ও ঐচ্ছিক।

(২) প্রথম তফসিলের প্রথম অংশে উল্লেখিত কার্যাবলী পরিষদের আবশ্যিক কার্যাবলী হইবে এবং পরিষদ ইহার তহবিলের সংগতি অনুযায়ী এই কার্যাবলী সমঙাদন করিবে।

(৩) প্রথম তফসিলের দ্বিতীয় অংশে উল্লেখিত কার্যাবলী পরিষদের ঐচ্ছিক কার্যাবলী হইবে এবং পরিষদ ইচ্ছ করিলে এই কার্যাবলী সমঙাদন করিতে পারিবে, তবে সরকার কতৃর্ক নির্দেশিত হইলে পরিষদ এই কার্যাবলী সরকারের নির্দেশ মোতাবেক সমঙাদন করিবে।

(৪) এই ধারার অধীন কার্যাবলী পরিষদ এই আইন এবং বিধির বিধান বা অনুরূপ বিধান না থাকিলে সরকার কতক সময় সময় পদত্ত নির্দেশ সাপেক্ষে, সমঙাদন করিবে।

২৮।  বাণিজ্যিক প্রকল্প- বিধি অনুযায়ী এবং সরকারের পঞ্ঝর্ব অনুমোদনক্রমে, পরিষদ যে কোন বাণিজ্যিক কার্যক্রম বা প্রকল্প গ্রহণ, বাসনবায়ন ও পরিচালনা করিতে পারিবে।

২৯।  সরকার ও পরিষদের কার্যাবলী হস্তান্তর  ইত্যাদি-- (১) এই আইনে অথবা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কে, সরকার সময় সময় তৎকর্তৃক নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে-

(ক) জেলা পষিদ কর্তৃক পরিচালিত কোন প্রতিষ্ঠান বা কর্ম সরকারের ব্যবস্থাপনায় ও নিয়মল্গণে এবং

(খ) সরকার কর্তৃক পরিচালিত কোন প্রতিষ্ঠান বা কর্ম জেলা পরিষদের ব্যবস্থাপনায় ও নিয়ন্ত্রকল্পে, হস্তান্তর করার নির্দেশ দিতে পারিবে।

(২) স্থানান্তরিত  বিষয়ে  দায়িত্ব  পালনরত  কর্মকর্তাদের  বার্ষিক  কার্যক্রম  প্রতিবেদন (Annual  Performance Report) চেয়ারম্যান কর্তৃক এবং তাঁহাদের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (Annual  Confidential  Report) স্ব-স্ব দপ্তরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা কতক লিখিত হইবে।

৩০।   পরিষদের উপদেষ্টা-  গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের অধীন নির্বাচিত কোন জেলার সংসদ-সদস্যগণ উক্ত জেলার পরিষদের উপদেষ্টা হইবেন এবং তাঁহারা পরিষদকে উহার কার্যাবলী সম্পদনে পরামর্শদান করিতে পারিবেন।

৩১।   নির্বাহী ক্ষমতা-- (১) এই আইনের অধীন কার্যাবলী যথাযথভাবে সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল কিছু করিবার ক্ষমতা পরিষদের থাকিবে।

(২)  এই আইন বা বিধিতে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে পরিষদের নির্বাহী ক্ষমতা চেয়ারম্যানের উপর ন্যসন হইবে এবং এই আইন এবং বিধি অনুযায়ী চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রত্যক্ষভাবে অথবা তাঁহার নিকট হইতে ক্ষমতা প্রাপ্ত অন্য কোন ব্যক্তির মাধ্যমে উহা প্রযুক্ত হইবে।

(৩)  পরিষদের নির্বাহী বা অন্য কোন কার্য পরিষদের নামে গৃহীত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশ করা হইবে এবং উহা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রমাণীকত হইবে।

৩২।  কার্যাবলী নিসঙনণ- (১)  পরিষদের কার্যাবলী বিধি দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে ও পদ্ধতিতে উহার বা উহার কমিটিসমুহের সভায় অথবা উহার চেয়ারম্যান, সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারী কর্তৃক নিধারণ করা হইবে।

(২)পরিষদের সকল সভায় চেয়ারম্যান এবং তাঁহার অনুপস্থিতিতে ধারা ১৩ এর বিধান অনুসারে নির্বাচিত অস্থায়ী চেয়ারম্যান সভাপতিত্ব করিবেন।

(৩)  পরিষদের কোন সদস্যপদ শূন্য রহিয়াছে বা উহার গঠনে কোন ত্রুটি রহিয়াছে কেবল এই কারণে কিংবা পরিষদের বৈঠকে উপস্থিত হইবার বা ভোট দানের বা অন্য কোন উপায়ে উহার কার্যধারায় অংশগ্রহণের অধিকার না থাকা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি অনুরূপ কার্য করিয়াছেন কেবল এই কারণে পরিষদের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না।

(৪)  পরিষদের প্রত্যেক সভার কার্যবিবরণী একটি বহিতে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে এবং ইহার একটি করিয়া অনুলিপি সভা অনুষ্ঠিত হইবার তারিখের চৌদ্দ দিনের মধ্যে সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।

৩৩।  পরিষদের সভা-- (১) প্রতি মাসে অন্ততঃ একবার পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হইবে।

(২)   পরিষদের  সভায়  ধারা  ২৯  অনুসারে  পরিষদের  নিকট  হস্তান্তরিত  প্রতিষ্ঠান  বা  কর্মের  জেলা  পর্যায়ের  প্রধান কর্মকর্তাগণ  উপসি'ত  থাকিতে  পারিবেন  এবং  পরিষদের  সাধারণ  আলোচনায়  অংশগ্রহণ  করিতে  পারিবেন,  কিম'  তাহাদের  কোন ভোটাধিকার থাকিবে না।

(৩)  পরিষদের সকল সিদ্ধামন উহার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটে গৃহীত হইবে।

৩৪।  কমিটি-(১) পরিষদ উহার কাজের সহায়তার জন্য প্রয়োজনবোধে চেয়ারম্যান বা সদস্য বা অন্য কোন ব্যক্তি সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কমিটি গঠন করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ কমিটির সদস্য সংখ্যা, দায়িত্ব ও কার্যধারা নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) পরিষদ নিম্নবর্ণিত বিষয়ে একটি করিয়া স্থায়ী কমিটি গঠন করিবে, যথাঃ-

(ক) আইন শৃঙ্খলা;

(খ) স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, পরিবেশ, পানীয় জল ও স্যানিটেশন;

(গ) কৃষি, সেচ, সমবায়, মৎস্য ও পশুপালন;

(ঘ) শিক্ষা;

(ঙ) সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু উন্নয়ন, যুব উন্নয়ন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি;

(চ) ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, এনজিও কার্যক্রম ও আত্ম কর্মসংস্থান;

(ছ) যোগাযোগ ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন।

(৩)  পরিষদের একজন সদস্য স্থায়ী কমিটির সভাপতি হইবেন; তবে শর্ত থাকে যে, পরিষদের কোন সদস্য একাধিক স্থায়ী কমিটির সভাপতি হইবেন নাঃ আরও শর্ত থাকে যে, স্থায়ী কমিটিসমূহের অন্যান্য এক-তৃতীয়াংশের সভাপতি হইবে পরিষদের মহিলা সদস্য।

৩৫।  চুক্তি- (১)  পরিষদ কর্তৃক বা উহার পক্ষে সম্পাদিত সকল চুক্তি -

(ক) লিখিত হইতে হইবে এবং পরিষদের নামে সমঙাদিত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশিত হইতে হইবে; এবং

(খ) বিধি অনুসারে সমঙাদিত হইবে।

(২)  কোন চুক্তি সম্পাদনের অব্যবহিত পরে অনুষ্ঠিত পরিষদের সভায় চেয়ারম্যান উক্ত চুক্তি সম্পর্কে পরিষদকে অবহিত করিবেন।

(৩) এই ধারা লংঘনক্রমে সমঙাদিত কোন চুক্তির দায়-দায়িত্ব পরিষদের উপর বর্তাইবে না।

৩৬।  নির্মাণ কাজ- সরকার বিধি দ্বারা -

(ক) পরিষদ কর্তৃক সম্পাদিতব্য সকল নির্মাণ কাজের পরিকল্পনা এবং আনুমানিক ব্যয়ের হিসাব প্রণয়ন করিবার বিধান করিবে;

(খ) উক্ত পরিকল্পনা ও ব্যয় কোন কতপক্ষ কতৃর্ক এবং কি শর্তে প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিকভাবে অনুমোদিত হইবে উহার বিধান করিবে;

(গ) উক্ত পরিকল্পনা ও ব্যয়ের হিসাব কাহার দ্বারা প্রণয়ন করা হইবে এবং উক্ত নির্মাণ কাজ কাহার দ্বারা সমঙাদন

করা হইবে উহার বিধান করিবে।

৩৭।  নথিপত্র, প্রতিবেদন ইত্যাদি- পরিষদ -

(ক) উহার কার্যাবলীর নথি নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করিবে;

(খ) নির্ধারিত বিষয়ের উপর সাময়িক প্রতিবেদন ও বিবরণী প্রণয়ন ও প্রকাশ করিবে;

(গ) উহার কার্যাবলী সমঙর্কে তথ্য প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় বা সরকার কতক সময় সময় নির্দেশিত অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।

৩৮।  জেলা পরিষদ সার্ভিস-- (১)  নির্ধারিত পদ্ধতিতে এবং শর্তাধীনে জেলা পরিষদ সার্ভিস গঠিত হইবে।

(২) পরিষদের কোন কোন পদ উক্ত সার্ভিসের সদস্যদের দ্বারা পূরণ করা হইবে তাহা সরকার সময় সময় নির্ধারণ করিবে।

৩৯। পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারী-- (১)  নির্ধারিত শর্তানুযায়ী সরকার প্রত্যেক পরিষদের জন্য সরকারের উপ-সচিব পদমর্যাদার একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, একজন সচিব এবং অন্যান্য কর্মকর্তা নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাঁহারা এই আইন দ্বারা বা আইনের অধীন নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করিবে।

(২) পরিষদের  কার্যাদি  সুষ্ঠুভাবে  সম্পাদনের&

ফাইল



Share with :

Facebook Twitter